প্রকাশকের কথা
মহান আল্লাহপাকের অগণিত শোকর আদায় করছি, যিনি এক অদ্বিতীয়, যাঁর কোন শরীক নেই, যিনি আকাশ মণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিযিকদাতা। দরূদ ও সালাম প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স), তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবাগণের প্রতি ।
মহান আল্লাহ পাকের অলিগণের ইতিহাস শুনতে ও জানতে প্রত্যেক মুসলমান আশ করে থাকেন। কারণ আল্লাহ পাকের অলিগণ হলেন নায়েবে রাসূল । নবী রাসূল আগমনের ধারা বন্ধ হয়ে গেছে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স)-এর আবির্ভাবের পর থেকেই। এ নবী রাসূলগণের অনুপস্থিতিতে দ্বীনের দায়িত্ব পালন করেন আল্লাহর অলিগণ। আল্লাহর এ অলিগণই নবী রাসূলগণের ওয়ারিশ হিসেবে আল্লাহ পাকের দ্বীন আল্লাহপাকের যমিনে প্রতিষ্ঠিত রাখার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আল্লাহ পাকের অলিগণের অনুসরণ করলেই দ্বীনের সন্ধান পাওয়া যায় ।
পিতৃ-মাতৃ উভয় বংশধারা মতে দেখা যাচ্ছে যে, জনক ও জননী উভয়ের দিক দিয়ে হযরত খাজা মঈনদ্দীন চিশতী (রহঃ) হুযুরে পাক (দঃ)-এর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ছিলেন (তাঁর বংশক্রম বইতে উল্লেখ করা হয়েছে)। খাজা সাহেবের পিতা হযরত গিয়াসুদ্দীন আহমদ সনজরী (রহঃ) একজন বিশিষ্ট ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন। তবে তিনি ব্যবসায় সূত্রে অত্যন্ত সুখ-সমৃদ্ধির মধ্যে থেকেও যথেষ্ট ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন। শুধু তাই নয়; বরং তিনি একজন কামেল অলী ছিলেন। বিরাট ব্যবসা পরিচালনা করা সত্ত্বেও তিনি সর্বদা আল্লাহ তায়ালার যিকির-আযকার ও ইবাদাত-বন্দেগীতে সর্বদা রত থাকতেন ।
ঘাগা সাহেবের জননী উম্মুল ওয়ারাও জনৈক বিদূষী এবং অভ্যন্ত আল্লাহ- প্রেমিকা মহিলা ছিলেন । এরূপ গুণবান ও গুণবতী জনক-জননীর সন্তান হযরত মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) যে একজন অদ্বিতীয় খোদা-প্রেমিক ও কামেল অলী হবেন ভাঙে আর বিচিত্র কি?