বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ:) পিতা-মাতার পরিচয়
১১
একটি প্রবাদে আছে, যেমন বৃক্ষ তেমন ফল । বড়পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর পিতা-মাতা দু'জনই ছিলেন মহান আল্লাহ্ তা'আলার প্রিয় বান্দা। তাঁরা দু'জনই ছিলেন হযরত আলী (রহঃ)-এর বংশধর। সোনায় সোহাগা কাহাকে বলে আর। শুধু বংশধরই ছিলেন না তাঁরা উচ্চমানের একনিষ্ঠ তাপস ও সাধক ছিলেন। ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় পাবন্দ। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর পিতা হযরত আবু সালেহ মুসা (রহঃ) ছিলেন আল্লাহ্ তাআলার একজন ওলী । সে যে কত উঁচুমানের আল্লাহভক্ত ছিলেন তা তাঁর জীবনী পড়িলেই বোধগম্য হওয়া যায়। মাতা উম্মুল খায়ের হযরত ফাতেমা (রহঃ)ও ছিলেন উঁচুস্তরের তাপস হযরত আবদুল্লাহ সাইমেরী (রহঃ)-এর কন্যা। তিনি কখনও পর্দার বাহিরে যাননি । ইসলামের হুকুম আহকাম পালন করেছেন একাগ্রচিত্তে। এ পর্দানশীল পূন্যবতী মহিলা হযরত হোসাইন (রাঃ)-এর বংশধর ছিলেন। হযরত ফাতেমা (রহঃ) ছিলেন পবিত্র ও নিস্কলুষ চরিত্রের অধিকারী তাঁদের পাক পবিত্র জীবন যাপন সত্যিই বিস্ময়কর ।
হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর পিতা সাইয়্যেদ আবু সালেহ মূসা (রহঃ)-এর যৌবনকালের ঘটনাগুলো হল। তখন তিনি স্ত্রী গ্রহণ করেননি। এ সময় তিনি একবার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে রওনা করলেন। প্রবাসে কিছুদিন অতিবাহিত হবার পর তার খাদ্য শেষ হয়ে গেল । তিনি খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে লাগলেন ।
I
একদা চারদিনের অনাহার অবস্থায় একটি নদীর তীরে বসে দূর্বল শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য বিশ্রাম করছিলেন। এক সময় তাঁর খুব ক্ষুধার জ্বালা অনুভূত হতে থাকে। তিনি নদীর পানির দিকে এক নজরে ডাকিয়ে আছেন এবং মহান আল্লাহ্ তাআলার নাম মনে মনে স্মরণ করছিলেন। ঠিক ঐ সময় একটি সাদা সেব ফল নদীর তীর ঘেঁষে ভেসে যেঙে দেখলেন। সে বসা থেকে উঠে নদীর তীর হতে সেব ফলটি তুলে জানলেন এবং ক্ষুধার তাড়নায় তা খেয়ে ফেললেন। ঐ মুহূর্তে ক্ষুধার যন্ত্রণায় তাঁর কোন কিছু চিন্তা করার সময় ছিলনা ।
সেব ফলটি খাওয়ার পর মুহূর্তে তাঁর মনে ভাবের সৃষ্টি হয় যে, না জেনে না শুনে কারো কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে কার গাছের ফল খেয়ে