আল্লাহর আর রহমান, আর রহিম নামের সহিত।
ব্যাখ্যা : 'তামিয়া' অর্থের প্রথম প্রচ্ছায়া (First shade of meaning) তা-আউজে আছে আশ্রয়ের জন্য প্রার্থনা এবং তামিয়াতে আশ্রয় লাভের পরবর্তী অবস্থা। আশ্রয় প্রার্থী এখন আমিত্ব ত্যাগ করিয়া আশ্রয় প্রাপ্ত হইয়াছে, তাই এখন সে আল্লাহর নামের অর্থাৎ গুণের সহযোগী হইয়াছে যিনি রহমান ও রহিম। আমিত্বের সমর্পণ করা সত্ত্বেও দুনিয়া হইতে এখনও মুক্ত হইতে পারে নাই এমন ব্যক্তির জন্য তিনি রহমান। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি আমিত্বের বন্ধন মুক্ত হইয়াছেন তাহার জন্য তিনি রহিম।
সমগ্র কোরানের মর্মবাণী এই দুইটি বাক্যের মধ্যে মূর্ত হইয়া রহিয়াছে ।
‘তামিয়া” অর্থের দ্বিতীয় প্রচ্ছায়া (Second Shade of meaning) ঃ দুনিয়া এবং আদদ্বীনের সর্ব অবস্থায় যথাক্রমে রহমানের এবং রহিমের দয়াগুণের সঙ্গে মানুষ সম্পর্ক যুক্ত হইয়া থাকে। মানুষের প্রতি আল্লাহর দয়াগুণসমূহ দুই ভাগে অভিব্যক্ত হইয়া থাকে। বিভক্ত। দুনিয়ায় তাঁহার দয়াগুণগুলি রহমান রূপে এবং আদ্বীনে রহিম রূপে
'বে' অর্থ সহিত, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক।
'ইসম' অর্থ নাম তথা গুণাবলী ।
“রহমান-আল্লাহ এবং রহিম-আল্লাহর গুণাবলীর সহিত বা গুণাবলী দ্বারা।” 'বে' শব্দ যোগ করিয়া এবং ক্রিয়া পদটি উহ্য রাখিয়া ইহা একটি অসম্পূর্ণ বাক্য বা পদ্যাংশ রূপে প্রকাশ করা হইয়াছে। ইহার ফলে প্রত্যেক কর্মানুযায়ী ক্রিয়া পদটি প্রযোজ্য হইতে পারিবে। যথা ঃ আরম্ভ করিতেছি, কাজ করিতেছি, পাঠ করিতেছি, পানাহার করিতেছি, দান করিতেছি, গমন করিতেছি ইত্যাদি যে কোন ক্রিয়ার সঙ্গে
সংযুক্ত হইতে পারিবে।
জন্য
উক্ত সাতটি বিষয়ের উপরে যাহার আনুগত্য থাকিবে না, তিনি এই বই যোগ্য নন বলিয়া বিবেচিত, তাই তাহাকে অনুরোধ করা হইতেছে যেন তিনি ইহা না পড়েন। কারণ, গোলযোপূর্ণ চিত্ত নিয়া এই বই পাঠ ক দ্বারা গোলযোগ সৃষ্টি হইতে পারে, সত্যকে আলিঙ্গন করা সম্ভব চাইতে পারে
৮। কোরানের যে শব্দের যে অর্থ তাহার যথার্থতা সর্বত্র রক্ষা করিতে হইবে। বাক্যের মৌলিক দর্শন না বুঝিবার কারণে অনুবাদকগণ কোন কোন শব্দের যথার্থ অর্থ হইতে সরিয়া গিয়া নিজেদের মধ্যে প্রচলিত পূর্ব ধারণা অনুসারে উহার শব্দার্থ গ্রহণ করেন। ফলতঃ উহার মৌলিক ভাবার্থ বদলাইয়া যায়। ইহা একটি মারাত্মক গোলযোগ। শব্দার্থকে স্থান বিশেষে ইজ্ঞানত বদলাইয়া লওয়া যাইবে না।
৯। বিপরীতমুখী কথা বা আত্মবিরোধী কথা সময় কোরানের কোথাও আছে বলিয়া বিশ্বাস করা চলিবে না। সমগ্র কোরান একই মহাসত্যের অখণ্ড একক প্রকাশ। সুতরাং সেখানে বিখণ্ডিভাবের অস্তিত্ব অবান্তর ও অসম্ভব। এই জন্য পূর্বধারণা (pre-conception) ত্যাগ করিয়া নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ মনে অগ্রসর হইতে হইবে।
যে কোন ব্যক্তির জন্য কোরান বুঝার উৎকৃষ্ট পদ্ধতি হইল ঃ কোরান না পড়িয়া আত্মিক সাধনার সাহায্যে বুঝিয়া লওয়া। যেমন বুঝিয়া থাকেন সত্যের সাধকগণ। সাধনার বিশেষ পর্যায়ে যেমন কদর রাত্রিতে সাধকের উপর কোরান-জ্ঞান নাজেল হইয়া থাকে।
অর্পণ
শরীরে