সমস্ত প্রশংসা জগত সমূহের মালিক মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ তায়ালার জন্য। হাজারও দরূদ ও সালাম জানাই নূর নবী পাকের দরবারে, যিনি খাতামুন নাবীয়্যিন, সায়্যেদুল মুরসালীন, অসংখ্য ও অগণিত মু'জিযার অধিকারী, যাকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে নূর ও জগতসমূহের রহমত বলে ঘোষনা করেছেন। কুরআনে যার আনুগত্য ও মুহাব্বত করার জন্য বারবার তাগিদ করা হয়েছে। নবীপ্রেমই হলো ইবাদতের মূল শর্ত যা বুখারী শরীফের কিতাবুল ইমান এর কয়েকটি হাদিস পাঠ করলেই স্পষ্ট বুঝা যায়। এছাড়া প্রতিটি ইবাদতের সাথে নবীজির নামকে আল্লাহ তায়ালা বুলন্দ করে দিয়েছেন। নামাজে, আযানে, ইকামতে নবীজির নাম বিদ্যমান রয়েছে। এছাড়া আদম আলাইহিস সালাম এর দোয়া কুবল হয়েছিল এই নূর নবীজির নামের বরকতে। নবীপ্রেমকে বুকে ধারণ করে যুগে যুগে অনেক নবীপ্রেমিকের আগমণ ঘটেছে, যাদেরকে আমরা ওলী-আউলিয়া বলে জানি। আবার বিপরীতে নবীর দুশমনও যে কম আসেনি তা নয়। তবে সবচেয়ে বড় দুশমন হলো ঘরের দুশমন। কথায় বলে ঘরের ইঁদুরে সিদ কাটলে তা ঠেকানো মুশকিল, আসলে তাই। অন্যান্য ধর্মের লোক ইশকে নবীর বিরুদ্ধে যতটুকু ক্ষতি করেছে, তারচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে মুসলমান নামধারী মুনাফেক। অবশ্য এদেরকে সহজে চেনাও মুশকিল। আবার চিনলেও পূর্ব পুরুষের আকিদার কারণে তা বলাও মুশকিল। তবে সত্যকে প্রকাশ করাই মুসলমানের কাজ, চেপে রাখা মুনাফিকের লক্ষণ।
যে ইসলামের আলোক আভায় বিশ্বজগৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল, মরুর তৃষ্ণাতুর বালুকা রাশি রহমতের বারিধারায় সিক্ত হয়েছিল, নিষ্প্রাণ মরুর ধুলায় সবুজের অঙ্কুর উঠেছিল, যাঁর আগমনে জুলুম ও অত্যাচারের প্রাসাদ ঝর ঝর করে ধ্বসে পড়েছিল, নিপীড়িত মানবজাতি মুক্তির মুকুট পেয়েছিল, সে ইসলাম ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে আজ চলছে অসংখ্য পাঁয়তারা। কখনও বিধর্মী ও কখনও মুখোশধারী মুসলমানদের দ্বারা যুগে যুগে ইসলাম বহু আঘাত পেয়েছে। এ সমস্ত মুসলমানদের চেনা সহজ, আবার কঠিন। কেননা এরা আনাচে কানাচে এমনভাবে ছড়িয়ে আছে, একশ্রেণীর লোেক তাদেরকে বুযুর্গ হিসেবে ভক্তিও করে।
সময়ের পরিক্রমায় মানুষের মাঝে চিন্তা, উপলব্ধি ও আকিদাগত বিভিন্ন পার্থক্য সৃষ্টি হতে থাকে। চিন্তা, উপলব্ধি এবং আকিদাগত এই পার্থক্য কালক্রমে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়ে এশী ধর্মের অনুসারীদের মাঝে বিছিন্নতার জন্ম দিয়েছে। এভাবেই অসংখ্য ফেরকা তা মানুষের চিন্তাগত ভ্রান্তির কারণেই হোক কিংবা কোন ব্যক্তি, দল বা কারো রাজনৈতিক দুরভিসন্ধির কারণেই হোক গড়ে উঠেছে। একথা এখন অনস্বীকার্য যে, এইসব ফেরকা দ্বীনের ঐক্যকে টার্গেট করে বিছিন্নতার তীর নিক্ষেপ করেছে। ইসলাম হচ্ছে ঐক্যের মূল উৎস। ঐক্যের এই উৎসমূলে বিচ্ছিন্নতার বীজ রোপন করেছে ফেরকাগুলো। এ সমস্ত ফেরকাগুলোর মধ্যে কিছু কিছু ফেরকা ইসলামের জন্য এতই মারাত্মক যা ভাষায় বর্ণনাহীন। বাহ্যিকে এরা ইসলামের কথা বললেও ভেতরগতভাবে এরা ইসলাম হতে ছিটকে পড়েছে। ঠিক এমনই একটি ফেরকা হলো ওহাবী ফেরকা। ওহাবী দল ইসলাম হতে ছিটকে পড়েছে। বাহ্যিকভাবে তাদেরকে দেখলে মনে হবে পাক্কা মুসলমান, কিন্তু আকিদাগত দিক থেকে তারা শানে রেসালাতের ঘোর বিরোধী। একপাল ছাগলের মধ্যে দুটো নেকড়ে ছেড়ে দিলে ছাগলপালের জন্য যেমন মারাত্মক, ঠিক তেমনিভাবে ওহাবীদল মুসলমানদের জন্যও মারাত্মক। এই ফেরকাটির শেকড় এত গভীরে চলে গিয়েছে, যা ধারণার বাইরে।
