আল্লাহ তায়ালার জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি জগত সমূহের মালিক। হাজারও দরূদ ও সালাম জানাই নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে, যিনি খাতামুন নাবীয়্যিন, সায়্যেদুল মুরসালীন, অসংখ্য ও অগণিত মু'জিযার অধিকারী, যাকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে নূর ও জগতসমূহের রহমত বলে ঘোষনা করেছেন।
বায়আত তথা পীর-মুরিদী সুন্নত প্রথা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম হতে শুরু করে আজ অবধি বায়আতের ধারা চালু রয়েছে। খোলাফায়ে রাশেদীনের পরে বায়আতের ধারা চালু রেখেছেন আউলিয়া কেরামগণ। বায়আত এমনি একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ আমল এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন,
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُتُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا
عظيمًا
অর্থাৎ 'যারা আপনার হাতে বায়আত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর হাতে বায়আত গ্রহণ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে, অতএব যে বায়আত ভঙ্গ করে; অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করে আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরষ্কার দান করবেন'। (সূরা ফাতাহ-১০)
উপরোক্ত আয়াতে বায়আত গ্রহণের গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, নবীজির হাতে বায়আত গ্রহণ করার অর্থ হলো আল্লাহ তায়ালার কুদরতি হাতে বায়আত গ্রহণ করা। সুতরাং বায়আত গ্রহণ করা কুরআনের নির্দেশ।এ দৃষ্টিকোণ থেকে বায়আত, বায়আতের গুরুত্ব, বায়আতের প্রকারভেদ, পীরের পরিচয়, মুরিদের পরিচয়, বায়আত ভঙ্গের পরিণতি, কামেল পীরের পীরের সহ পীর-মুরিদী যাবতীয় বিষয় সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। যাতে তরিকপন্থীসহ সকলেই উপকৃত হতে পারে।
বর্তমানে আমাদের দেশে অনেকেই কামেল পীরের আলামত নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। একশ্রেণীর লোক পীর-মুরিদী নিজেদের করায়াত্বে রাখার জন্য মনগড়া নিদর্শণ আবিস্কার করে নিজেদেরই কামেল পীর মনে করে। আর যারা প্রকৃত পক্ষেই কামেল পীর তাদেরকে বিদআতী বলে অপপ্রচার করছে। তাই এই গ্রন্থে কামেলর পীরের লক্ষণ তুলে ধরে বিরোধীদের ষড়যন্ত্র উন্মোচন করার চেষ্টা করেছি, যেন সত্য সকলের সামনে প্রকাশ পায়।
আরও একটি বিষয় হলো আদাবুল মুরিদ বা পীরের প্রতি মুরিদের আদব প্রদর্শন। সুন্নী মুসলমান পীর-মুর্শিদের প্রতি আদব প্রদর্শন করলে ওহাবীরা কত ধরণের ফতোয়া দিয়ে থাকে তা সকলেরই জানা। কিন্তু ওহাবীদের কিতাবেই আদাবুল মুরিদের দলিল আছে। সে সমস্ত দলিল অত্র গ্রন্থে উপস্থাপন করেছি। এছাড়া আদাবুল মুরিদ তথা পীরের প্রতি মুরিদের আদব সম্পর্কে হাদিস শরীফ থেকে দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে। আশা করি সুন্নী মুসলমানগণ উপকৃত হবেন এবং ওহাবীরা উচিৎ জবাব পেয়ে যাবে।
গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন আমার মুর্শিদ কেবলার সুযোগ্য সাহেবজাদা ও শরিয়তপুর জেলার সখিপুর থানায় অবস্থিত মাছুমীয়া দরবার শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন আল্লামা শাইখ মুফতি মোস্তার রেযা মাছুমী আল ওসমানী সাহেব। এছাড়া সম্পাদনার বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানায় অবস্থিত কাজীশাল দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আল্লামা মুফতি সৈয়দ জাকারিয়া উদ্দিন জিলানী সাহেব এর ভূমিকা সবচেয়ে বেশী। অপরদিকে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানায় অবস্থিত সাদরা দরবার শরীফের পরিচালক ড. মুফতি খাজা বাকিবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী, সাহেবও গ্রন্থটি সম্পাদনায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। তাই তরিকতের এই তিনজন উজ্জল নক্ষত্রের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি এবং সেই সাথে তাঁদের নেক হায়াত কামনা করছি।
পরিশেষে গ্রন্থটি রচনা করতে যারা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন তাদেরকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে ফোনের মাধ্যমে অনেকেই এ ধরণের একটি গ্রন্থ লেখার জন্য অনুরোধ করেছেন। এছাড়া অধমের ভক্ত-মুরিদগণের দিকে লক্ষ্য রেখে এ ধরণের একটি গ্রন্থ রচনার প্রয়োজনীয়তা ছিল। তাই সার্বিক দিক লক্ষ্য রেখে আল্লাহ ও রাসূলের দয়ায় এবং আউলিয়া কেরামের নেক নজরে গ্রন্থটি রচনা করলাম।
গ্রন্থটি রচনা করতে যে সমস্ত গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি, তা গ্রন্থপঞ্জিতে সন্নিবেশ করেছি। গ্রন্থটি প্রকাশে শব্দগঠন, বানান ইত্যাদি কাজে ভুল থাকা কোন অসম্ভব কিছু নয়। সে ভুলগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে পরামর্শ দেয়ার অনুরোধ রইলো। পরবর্তী সংস্করণে তা সংশোধন করবো ইনশাআল্লাহ। বইটির বিষয়ে আপনাদের মতামত একান্ত কাম্য। প্রয়োজনে ronychisty@yahoo.com এই ঠিকানায় ই-মেইল করলে খুশি হবো।
