মসজিদ শব্দটির উৎপত্তি : ১৫ হাকীকতের এই সমস্ত অবস্থাপ্রাপ্ত হইতে হইলে মসজিদের আদব ও মসজিদ সংক্রান্ত মাসলাগুলি জানিয়া লওয়া প্রয়োজন। আবার মসজিদের প্রকৃত স্বরূপ বুঝিতে পারিলে মসজিদ সংক্রান্ত মাসলাগুলির তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য সহজেই বুঝা যাইবে। তাই ঐসব কথা লেখা দরকার মনে করিলাম না।
'আয়াত' শব্দটির কোরানী অর্থ বুঝিয়া লওয়া প্রয়োজন। সৃষ্টির প্রত্যেকটি বস্তু আল্লাহর 'আয়াত', অর্থাৎ চিহ্ন, নিদর্শন ও পরিচয়। আল্লাহ হইতে সমগ্র সৃষ্টির আগমন এবং তাহারই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন। সৃষ্টিকে যতক্ষণ আমরা বাহ্য চক্ষু দ্বারা দেখিয়া থাকি ততক্ষণ উহাকে আল্লাহর চিহ্নরূপে চিন্তা করিলেও উহা আল্লাহর পরিচয় দান করে না এবং উহা আল্লাহর নিদর্শনরূপে প্রকাশ পায় না। কারণ মূলত সমস্ত সৃষ্টি তাঁহারই পরিচয় বলিয়া স্বীকার করিয়া লইলেও বাহা চক্ষু দ্বারা এইগুলিকে তাঁহার আয়াতরূপে দেখা সম্ভব
নহে।
যখন তাঁহার দয়া অবতীর্ণ হইয়া তাঁহার কোনও দাসের আমিত্বের আবরণ ছিন্ন করিয়া ফেলেন তখন বাহ্য চক্ষুর অভ্যন্তরীণ অতীন্দ্রিয় দৃষ্টিশক্তি তাহার খুলিয়া যায় এবং সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে স্রষ্টার পরিচয় এককভাবে দৃষ্টিগোচর হয়। তখনই বুঝা যায় যে, প্রত্যেকটি সৃষ্টি তাঁহার একেকটি ‘আয়াত’, কারণ সৃষ্টি আসলে যে, আল্লাহর নূরেরই রূপান্তরিত বিকাশ, তাঁহার অভ্যন্তরীণ সেই আসল প্রকৃতি কেবল তখনই দৃশ্যমান হয়।
'আয়াত'-এর এইরূপ অর্থ গ্রহণ না করিলেও আমরা তো সর্বক্ষণ তাঁহার নিদর্শনগুলির সংযোগেই রহিয়াছি। নূতন করিয়া সংযোগের কথা উঠিতে পারে না, কারণ বস্তু সংযোগ ব্যতীত নিত্যকার মানব জীবন অসম্ভব। তাহা ছাড়া আয়াতের সংযোগে আসিলে হতচেতন হওয়ার প্রশ্নও আসে না।
কোরানে বলিতেছেন, 'আল্লাহু নুরুসামাওয়াতে অল আরদ্।' অর্থাৎ আসমান ও জমিন তথা সমস্ত সৃষ্টির নূর স্বয়ং আল্লাহ। কিন্তু তিনি দুনিয়ার আমিত্ব বিশিষ্ট দৃষ্টি হইতে তাহা লুকাইয়া রাখিয়াছেন। সৃষ্টি রহস্যের মূলে দৃষ্টি নিক্ষেপ দুনিয়াদারের জন্য অসম্ভব। এই জন্য কোরান দুনিয়াবাসীকে অন্ধ আখ্যা দিয়াছে। আমিত্ব চূর্ণ হইয়া গেলেই প্রত্যেকটি সৃষ্টির মধ্যে স্রষ্টার নূরই দৃষ্টিগোচর হইয়া থাকে।
ভাষায় লিখিত কোরানের প্রত্যেকটি বাক্যকেও একটি ‘আয়াত’ বলা হয়, কারণ, কোরানের বাক্য দ্বারা আল্লাহর পরিচয় প্রকাশের চেষ্টা করা হইয়াছে, কিন্তু এই অর্থে 'আয়াত' শব্দটি কোরানে ব্যবহার করা হয় নাই।
*মাসলা অর্থ ব্যবহারিক নিয়ম।
১৬ মসজিদর্শ
কোরান ও হাদিসে মসজিদের স্বরপ মানব মন সংসার জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়াইয়া থাকিতে ভালোবাসে। উহাই তাহার স্বভাবধর্ম । কিন্তু আল্লাহকে লাভ করিতে হইলে তাহাকে অন্তরে বস্তু নিরপেক্ষ ভাব অবশ্য তৈরি করিয়া লইতে হয়। বস্তুভিত্তিক সংসার জীবনে এই কারণে এই দুই অবস্থার সঙ্গে বাঁধে বিরোধ (অর্থাৎ ভাববাদ ও বস্তুবাদ)। ইসলাম এই বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান দান করিয়াছে। মসজিদ এই সমাধানের একটি মূলকেন্দ্র। এই জন্য ইসলামী জীবন-বিধান নিয়ন্ত্রণে মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করিয়া রহিয়াছে।
ইসলামে মসজিদের সংজ্ঞা বুঝিতে হইলে প্রথমে ইসলামের স্বরূপ বুঝা দরকার। সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর বিধানে পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী। পরমাণু হইতে আরম্ভ করিয়া বৃহত্তম নক্ষত্র পর্যন্ত সকলই আল্লাহর রচিত বিশ্ব প্রকৃতির বিধানে তথা আল্লাহর কেতাবে পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী। স্বভাব প্রকৃতির দিক হইতে মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও আল্লাহর এই মহাবিধানের পূর্ণ অনুসারী। এইজন্য সমস্ত সৃষ্টিকেই পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী (অর্থাৎ মুসলমান) বলা হয়। কেবল মানুষই ইহার ব্যতিক্রম। মানুষ মাত্রই মুসলমানরূপেই জন্মগ্রহণ করে বটে কিন্তু বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সে ক্রমে ক্রমে অমুসলমান হইতে থাকে। কারণ স্বভাব-প্রকৃতির দিক হইতে তাহার সর্বাঙ্গ মুসলমান হইলেও মনটি তাহার মুসলমান নয়। এই মনকে মুসলমান বানাইবার জন্যই বিশ্বের সমস্ত ধর্ম বিধান আসিয়াছে। আল্লাহর প্রেরিত নবী ব্যতীত কেহই ধৰ্ম প্রবর্তক হইতে পারে না। সর্বধর্মের মূলতত্ত্ব এক হওয়া সত্ত্বেও পরিণামে ব্যবহারিক বিধানের মধ্যে বৈষম্যের সৃষ্টি হইয়া মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দল ও গোত্রে বিভক্ত হইয়া গিয়াছে।
সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর বিধানে পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী । কেবল মানুষের মন বা অন্তর মুসলমান বা আত্মসমর্পণকারী নহে। কাহাকেও আত্মসমর্পণকারী বানাইতে হইলে কর্মের মধ্যে নিয়োজিত রাখিয়াও তাহাকে কর্ম-নিরপেক্ষ ভাববাদীরূপে এমন একপ্রকার অবস্থা, হাল বা চিন্তাধারা তাহাকে অবলম্বন করিতে হইবে যেন সেই কর্মের প্রতি মনোযোগের দ্বারা কর্মে মোটেই আবদ্ধ হইয়া না থাকে। তাহার মন সর্বতোভাবে আল্লাহমুখী হইয়া এমনভাবে কর্ম সমাধা করিবে যেন তাহার মন কর্মমুখী না হয়। অথচ দেহরক্ষা ও সমাজরক্ষার খাতিরে কর্ম না করিলেও নয়। চব্বিশ ঘণ্টার জীবনের মধ্যে কর্ম ও চিন্তার যে হালে মন যখন অবস্থান করে সেই হাল হইতে কর্মবাদকে দূরীভূত রাখিয়া মনকে উহা হইতে মুক্তি দান করিয়া আল্লাহর ধ্যানে নিবন্ধ রাখিতে পরিলে উহা মসজিদে পরিণত হইয়া যায়। সুতরাং
দেখা যায়, প্রত্যে
যখন সে বাস কি করিয়া তুলিতে প মসজিদ রচনা ক মসজিদ। সারাি ডাকিবার