শয়তানের ডায়েরী
পির আলী একজন আলেম, একদিন অপরাহ্নে তিনি রাস্তায় শয়তানকে দেখিয়া তাহার সঙ্গে কথা বলিতেছিলেন।
পির আলী-কে যায়?
শয়তান -আচ্ছালামু আলাইকুম, হুজুর আমি
পির আলী-কোথায় যাও?
শয়তান- যাইনা কোথাও, একটু রাস্তার বাহির হইয়াছি। পির আলী-তোর হাতে ওটা কি? কেতাৰ নাকি? শয়তান--মা হুজুর ওটা আমার ভায়েরী।
পির আলী-তোর ডায়েরীটা একটু দেখিতে পারি?
শয়তান-হুজুর। ডায়েরী দেখিয়া সকল জায়গা দিয়া বুঝিবেন না । কারণ, ইহার অনেক জায়গায় কিছু লেখা নাই, শুধু সঙ্কেত চিহ্ন। তাই আমি নিজে মৌখিকভাবে আপনাকে আমার ডায়েরীর বিষয়বস্তু সম্পরে মোটামুটি একাটা বিবরণ শুনাইতেছি।
হুজুর, যখন শুনিতে চাহিলেন তখন একটু পূর্বের ঘটনা ধরিয়া আরম্ভ করি; কি বলেন?
পির আলী- আচ্ছা তাহা হইলে মন্দ হয় না, তবে এই সাগে: তোর প্রথম জীবনেরও দু'একটা ঘটনা বর্ণনা কর, ন
শয়তানের ডায়রী (প্রথম খণ্ড)
শয়তান-আজ বিশেষ কাজ নাই, একটু অবসর আছি
পির আলী- কেন? কাজ অচল হইয়া পড়িয়াছে নাকি?
শয়তান --- কি বলেন হুজুর! আমার কাজ অচল! ভুল বলিয়াছেন, কাজ আল্লাহর রহমতে ঠিকভাবে চলিতেছে। আমার শিষ্যকর্মী হিসেবে যাহাদিগকে আল্লাহ তায়ালা মিলাইয়াছেন তাহারা আমার চেয়ে কেহ কম নয়। যদি কোন শিষ্যকে এক কাজে পাঠাই তবে সমাধা করে তিন কাজ। এইভাবে আমার রাজ্য আপনাদের দোয়ার বরকতে ভালই চলিতেছে। যাক হুজুর, এখন শুনুন আমার কাহিনী। আমার বাল্যকালের ঘটনাদি আপনার অজানা নাই। কাজেই এখন আবার সে কথার পুনরুল্লেখ করিয়া অযথা সময় নষ্ট করার লাভ নাই। পরে আমার কর্ম জীবনের প্রাথমিক ইতিহাস খুব সম্ভব কোরআন কেতাবে বিস্তারিত পাইয়াছেন। তাই সে বিষয়ও নতুন করিয়া কিছু বলার আছে বলিয়া মনে করি না। তবে বর্তমান কার্যাদির মোটামুটি বিষয়গুলি ভালোভাবে আপনাকে শুনাইতে ইচ্ছা রাখি
পির আলী-আরে! তোর কর্ম-জীবনের ইতিহাস কোরআন কিতাবে যা পাইয়াছি তো পাইয়াছি। এখন তোর মুখে কতক শুনি না?
শয়তান –আচ্ছা হুজুর! তাহা হইলে বর্তমানে কার্যাদির বিবরণ একটু পরে বলিতেছি, এখন আমার বাল্য জীবনের ঘটনা শুনুন।
আমার বাল্যজীবনের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক, মাতৃপিতৃহীন অবস্থায় শৈশব কৈশোর অতিক্রম করিয়া যৌবনে পদার্পণ করি। বুদ্ধিজ্ঞান তেমন ছিল না বলিয়া দিনরাত আল্লাহর এবাদতে মশগুল থাকিতাম। এবাদত এক প্রকার মন্দ লাগিত না, তাই সর্বদা নফল নামাজ, নফল রোজা ইত্যাদি করিতাম। বহুযুগ ধরিয়া এই রকম এক মেয়ে অবস্থার ভিতর দিয়া জীবন-যাপন করিয়া কয়েক শতাব্দী পরে, একদিন হঠাৎ আল্লাহ তায়ালা মাটির আদমকে সম্মান করিতে বলায়
শয়তানের ডায়রী (প্রথম)
আমার অত্যন্ত ঘৃণা হইল, কারণ একদিকে আমি যেমন আগুনের তৈরী অন্যদিকে তেমন আল্লাহর একজন শ্রেষ্ঠ আবেদ। এই দুনিয়ার সর্বস্থানে আমার সেজদার দাগ আছে, তাই সদ্য সৃষ্ট মাটির আদমকে সম্মান করা আমার শোভা পায় না বলিয়া অস্বীকার করিলাম, অমনি আল্লাহ তায়ালা আমার এবাদতের প্রতি আর ভ্রূক্ষেপ না করিয়া নাফরমান বলিয়া বিতাড়িত করিলেন । মনে ভারি আক্ষেপ হইল যে, এত বন্দেগী করিয়া একটি আদেশ অমান্য করার দায়ে সুখময়ী জান্নাত হইতে চির জীবনের জন্য বঞ্চিত হইতে হইল। ভাবিয়া দেখিলাম একমাত্র মাটির আদমের জন্যই আমাকে বেহেস্ত হইতে বিতাড়িত হইতে হইল, অতএব সেই বেহেস্তে একা আদমকে সুখ ভোগ করিতে দেওয়া ঠিক হইবে না। তাই সেইদিন হইতে আদমের পিছনে লাগিয়া গেলাম। শুধু আদম নয়, আদমের যত সন্তান-সন্তুতি সকলের সাথে আনার চির শত্রুতা, হুজুর আপনার সঙ্গেও আমার বন্ধুত্ব নাই।
পির আলী- আরে! তোর বন্ধুত্বের কামনা করি না। যা বলিতেছিলি তাই বল।
শয়তান- হুজুর এই বেহেস্ত হইতে বিতাড়িত হইলাম পরে কি-যে করি বুদ্ধি নেওয়ার মত একটা লোক পাইলাম না। একাই ভাবনা চিন্তা করিয়া সব কিছু ঠিক করিলাম। প্রথম চিন্তা করিলাম, আদম জাতির জীবনের ক্ষতি সাধন করিতে হইলে তাহাদের শরীরে, মনে, রক্তে ও অন্তঃকরণে আমার হানা দিতে হইবে, তাই এই সমস্ত স্থানে অবাধ চলাফেরার জন্য আল্লাহর আদেশ কামনা করিলাম। আল্লাহ্ পাক দয়া পরবশ হইয়া আদেশ দিয়া বলিলেন, 'আর কি কামনা কর? দুনিয়ার এই কামনা দ্বারা তোমার এবাদতের প্রতিদান বুঝিয়া লও।' মনে করিলাম আননের সন্তান কিয়ামত পর্যন্ত জিবিত থাকিবে। তাই আমাকেও কিয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকা দরকার। অতএব কিয়ামত পর্যন্ত হায়াৎ কামনা করায় উহাও মঞ্জুর হইল। পরে আর কি কর্তব্য
