রহস্যময় স্পর্শলাভসহজ উত্তর। নামাজ হলো মুসলমানের মে'রাজ। মহান আল্লাহর সাথে। প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ। তিনি বলেছেন যে তাঁর এবং তাঁর বান্দার মধ্যে তৃতীয় কোনো মাধ্যম এসে দাঁড়াতে পারে না। হয় তিনি তাকে সরাসরি নিজের। রহমতের মুখোমুখি দাঁড়াবার সুযোগ দেন, কিংবা তার চিন্তা ও মননের। ওপর পর্দা ফেলে দেন, যেন কোনো সাক্ষাতই না ঘটে কারণ, অন্য কোনো জাগতিক চিন্তা বা মানবীয় কাল্পনিক নির্মাণ মাধ্যম হিসেবে বৈধ নয় অনুপযুক্ত ব্যক্তির সাথে তিনি সাক্ষাত করবেন একমাত্র হাশরের মাঠে পুনরুত্থান দিবসে। তাই যে-কোনো ব্যক্তিই নামাজে দাঁড়াক না কেন, তিনি তাকে প্রথমে তার নিজস্ব অন্তরের কলুষিত পর্দার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন, যেন সে আপ্রাণ সম্ভ্রমে এবং ভক্তিতে এবং নম্রতায় এবং আত্মসমর্পণের ব্যাকুলতায় সেই পর্দা ভেদ করার জন্য আপ্রাণ সাধনা করতে করতে এক পর্যায়ে তার পরম আরাধ্যের মুখোমুখি হবার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।এ হলো তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর প্রথম আধ্যাত্মিক পরীক্ষা—যাতে তিনি বান্দার নিজের অপরিচ্ছন্ন মনকে অবলম্বন করেই তাঁর প্রথম চ্যালেঞ্জপ্রয়োগ করেন।প্রত্যেক চোখই নিজ নিজ চশমার মধ্য দিয়ে তাকাতে থাকে ব'লে সবকিছুতে কেবল নিজের চশমার রঙই দেখতে পায়। এই চশমাটাকে খুলতে হলে আগে জানতে হবে যে আমার চোখে একটি চশমা আছে। নামাজে দাঁড়িয়ে অপরিচ্ছন্ন মন তার চশমার মুখোমুখি হয়। এই মুখোমুখি হওয়াই প্রথম শুভ লক্ষণ। কারণ তাতে বুঝতে পারা যায় যে আমাকে চশমাটা সরানোর জন্য মহান আল্লাহর কৃপায় সাধনা করতে। হবে। নইলে তাঁর দেখা পাওয়া যাবে না। সুতরাং নিরাশ হবার কিছু নেই। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। তিনি পথ প্রদর্শক। তিনি চশমাকে দেখার সুযোগ করে নেন চশমার পরাধীনতা থেকে দৃষ্টিকে যুক্ত করবার জন্যেই। সকল প্রশংসা তাঁর। নামাজে দাঁড়িয়ে আমি আমার চশমার কারণে তাকে দেখতে পাই বা না পাই, তিনি আমার দিকে তাকিয়ে
রহস্যময় স্পর্শলাভআমার হৃদয়ের অন্ধকার অলি-গলি সব দেখে ফেলছেন। এক অদৃশ্য আলো আমার ওপর প্রচণ্ড তীব্রতায় আপতিত হচ্ছে। সে আলোর সামনে আমি চোখ বুজে থেকে কি বোকা কাকের মতো ভাবতে পারি যে আমি চোখ বন্ধ। করেছি বলেই কেউ আমাকে দেখছে না? তা কখনই সম্ভব নয়।হাদিসেই আছে যে নামাজে দাঁড়িয়ে আমাদের স্মরণ রাখা উচিত যে আমি মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে দেখছি—আমি তাকে দেখতে না। পারলেও তিনি তো আমাকে দেখছেন।নামাজে একনিষ্ঠ এবং একনিবিষ্ট হবার এটিই মূল কথা। কিন্তু অনেকে এসব জেনেও পর্দা ভেদ করতে সমর্থ হয় না। এ কারণে আমরা এমন কিছু ব্যবহারিক কৌশল এবং উপমার আশ্রয় নেব যা অধিকাংশ চোখের ময়লাই মুছে দেয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে, ইনশাল্লাহ্একটি চমৎকার উপমা দিয়ে শুরু করা যাক। একটি গল্প। যা অনুভূতিপ্রবণ এবং বিজ্ঞ পাঠকের গায়ে কাঁটা দেবে। এই গল্পটিই হবে বইটির প্রধান উপজীব্য।এক দেশে ছিলেন এক রাজা।* তার বহুদিন যাবত কোনো সন্তানাদি হচ্ছিল না। আর সবার তো জানা যে নিঃসন্তান রাজা নিজেকে ভিক্ষুকের চেয়েও নিঃস্ব মনে করেন। তাই তিনি একটি সন্তানের জন্য বহু বৈদ্য- দরবেশের শরণাপন্ন হয়েছেন। অবশেষে তিনি এক বুযুর্গ দরবেশের সাক্ষাৎ পেলেন এবং তাকে অনুরোধ করলেন একটি রাজকুমারের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে। সব শুনে দরবেশ বললেন, 'হে পার্থিব সম্পত্তিবিলাসী রাজা । তোমার জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে কাদব, তবে এক শর্তে। 'কী শর্তে, হুজুর?" রাজা জানতে চাইলেন।এই শর্তে যে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তোমাকে নামাজ কায়েম রাখতে হবে। এবং আজীবন ইসলামের সেবা করতে হবে। তুমি যদি ইসলামের শত্রুই হবে, তাহলে আমি তোমাকে সাহায্য করব কেনা দুধকলা দিয়ে সাপ পোষার মতো বোকামি আমি করতে চাইনে।
