আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অতি সুপ্রাচীন। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের আশ্চর্য প্রভাব অতি প্রাচীনকাল হতেই পরিলক্ষিত। বর্তমানে এলোপ্যাথিক চিকিৎসার ব্যাপকতর গবেষণার ফলে, এলোপ্যাথিক চিকিৎসা প্রসার লাভ করিলেও—এই প্রাচীনতম শাস্ত্রের জ্যোতি ম্লান হয়নি, আয়ুর্বেদ শাস্ত্র লইয়া যদি আরও ব্যাপক গবেষণা চলিত—তবে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র এলোপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার কৃতিত্বকেও স্নান করিয়া দিতে পারিত।
কিন্তু দুঃখের যে, এই সুপ্রাচীন শাস্ত্র লইয়া নূতনতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তেমনতর গবেষণা চালান হয় নাই ।
আয়ুর্বেদোক্ত ঔষধ সঠিক প্রয়োগে হাতে হাতে ফললাভ হইয়া থাকে, এবং বলা বাহুল্য এ ধরনের ঔষধ প্রয়োগে সামান্য ভুল-ভ্রান্তির ফলে উদ্ভূত প্রতিকূল প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
যে সব গাছ-গাছড়াকে আমরা জানি না, চিনিনা তার গুণ—সেইসব উপেক্ষিত গাছ-গাছড়া ও তার গুণাবলী এই গ্রন্থে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। যে কোন রোগে এসব গাছান্ত ঔষধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
এই গ্রন্থে যেসব গাছ-গাছড়ার বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায়।
বর্তমানে বাজারে গাছ-গাছড়ার গুণাগুণ সম্পর্কে বহু নামি-দামী বই প্রচলিত হয়েছে, তা সত্ত্বেও এই বইটি একটু ব্যতিক্রমধর্মী এবং যা পাঠকালে পাঠকদের কাছে বিবেচিত হবে এবং অনেক অজানা কথা এর মাধ্যমে জানতে পারবেন। তখন আপনার মনে গাছান্ত ঔষধের প্রতি একটা আগ্রহ সৃষ্টি হবে যা আপনি এতদিন উপেক্ষা করেছিলেন।
এই গ্রন্থটিতে মানুষ যেসব গাছ-পালার সাথে পরিচিত এবং বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় গাছের পাতা, ছাল, ফুল, ফল, শিকড়, রস প্রভৃতি ব্যবহার করে উপকার পেয়েছেন সেসব গাছ-পালার গুণাগুণ সম্পর্কেও অনেক তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এই গ্রন্থে গাছ-পালার গুণাগুণ, ব্যবহার বিধি-বিধান যেমন বর্ণিত হয়েছে, ঠিক তেমনি তার সাথে রয়েছে চিত্র, ফলে পাঠকের গাছ-গাছড়া
তিল শরীরে কর্মশক্তি জোগায়। ঘৃতের পরেই তিলের স্থান। এটি বলাকার, অশ্মরী, রক্ত আমাশয়, রক্তার্শ প্রভৃতি রোগের পক্ষে হিতকর। কালো তিল শিলে বেটে নিয়ে সেটা অল্প গরম করে পুঁটলি বেঁধে মাথায় ও ঘাড়ে সেঁক দিলে শিরোরোগ নষ্ট হয়।
নয়নতারা আসলে একটি বর্ষজীবী সোজা কাওযুক্ত গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি বহু বছর ধরে নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও বেঁচে থাকে সাধারণতঃ এই গাছ এক বছরের বেশী বাঁচে না থাকে।
গাছটি দুই-তিন ফুটের বেশি লম্বা হয় না। কাণ্ডের রঙে লাল আভা
এই গাছের পাতা মসৃণ, অনেকটা ডিম্বাকৃতি ৷ শাখার অগ্রভাগে ফুল হয়। ফুলে পাঁচটি করে পাপড়ি থাকে।
এই গাছের ফুল তিন রঙের হয়ে থাকে, যথা-সাদা, গোলাপী ও হালকা গোলাপী।
বাগানের বেড়া হিসাবে সাধারণতঃ নয়নতারা গাছ লাগান হয়। পাতার তিক্ত স্বাদ থাকায় গরু-ছাগলে এই গাছ খায় না।
সারা বছরই এই গাছে ফুল ফোটে। তবে বর্ষার সময় বেশি হয়ে থাকে। সরষের শুঁটির মতো ফল হয়। শুঁটিতে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বীজ থাকে। বীজ থেকে নতুন গাছ জন্মায়। মাঝে মাঝে গাছ ঝেটে দিতে হয়। তা না হলে গাছ তাড়াতাড়ি মরে যায়, ফুলও কম ফোটে।
সমগ্র পৃথিবীতে নয়নতারার তিনটি প্রজাতি দেখা যায়। দুটি ভারতে পাওয়া যায়। ভারতের অঞ্চল বিশেষে বিভিন্ন নামে পরিচিত।
নয়নতারার পাতা, গাছ ও মূল ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। প্রধানতঃ মধুমেহ রোগের ক্ষেত্রে সমগ্র গাছটি ব্যবহৃত হয়। সমগ্র গাছের রস বহুমূত্র রোগ ও রক্তস্রাবে বিশেষ হিতকর।
কাঁচাপাতার রস বিষনাশক। কীটপতঙ্গের দংশনে, বৃশ্চিক দংশনে এই রস লাগালে বিষ নষ্ট হয়।
আদি ও আসল লোকমান হেকিমের হেকিমি কবিরাজী
কবিরাজ গ্রীরিশ চন্দ ভোলানাথ (সম্পাদক)
মনিহার বুক ডিপো
800
1st Published, 2020