আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা
গাছের গোড়ার দিকের অংশ কাটা কাটা হলেও ডালপালাগুলি হয় মসৃণ। ফাল্গুনের শেষের দিকে গাছের পাতা ঝরে যায় এবং গাছে গাছে ফুলের কুঁড়ি আসে। চৈত্র মাসে বনে বনে আগুনের ছটা ঝলকে অগ্নিকান্তি ফুল ফুটে যায়।
বর্ষার প্রারম্ভেই গাছে নতুন পাতা গজায়। পাতার মূল বৃত্তে তিনটে করে পাতা থাকে। পাতাগুলি অনেকটা বড় আকারের পলতে মাদার পাতার মতো।
পলাশ ফুলের কুঁড়িগুলোকে দেখতে অনেকটা বাঘের নখের মতো। আয়ুর্বেদ গ্রন্থে চাররকম পলাশ ফুলের কথা বা আছে।
তবে সচরাচর তিন প্রকার রঙের ফুলই দেখতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে লালচে কমলা লেবুর রঙের ফুলই বেশি দেখা যায়।
পলাশ ফুলের বোঁটা নেই বললেই চলে। সরু ডালের ডগার দিকে ফুলগুলো যেন পর পর সাজানো থাকে।
ফুলের গঠন অনেকটা বকফুলের মতো। তবে আকারে অনেক ছোট। এর গাঢ় কালচে খয়েরি রঙের আধারটি অনেকটা ভেলভেটের মতো।
পলাশের ফলগুলি ছোট গঠনের শিমের মতো। এক-দেড় ইঞ্চির বেশি লম্বা হয় না। ডাঁটার সঙ্গে লেগে থাকে।
ভারতের প্রায় সর্বত্র এই গাছ অল্পবিস্তর পাওয়া যায়। উত্তর-পশ্চিম হিমালয়ের নিম্নাংশেও প্রায় চার হাজার ফুট উচ্চতায় এই গাছ জন্মে।
পলাশ গাছের ছাল, পাতা, ফুল, বীজ ও আঠা বা গঁদ ওষুধার্থ ব্যবহার হয়। পাতা রসায়ন ও কামোত্তেজক। ক্রিমি, রক্তপ্রদর, বায়ু, উদরশূল ও অর্শ রোগের নিবারণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
পাতার প্রলেপ দিলে ব্রণ মিলিয়ে যায়।
পলাশ ফুল ধারক, মূত্রকারক ও কামোত্তেজক। পুষ্পের রস অতিসারে, অণ্ডকোষের প্রদাহে ব্যবহার করা হয়।
ক্রিমিনাশের জন্য বীজচূর্ণের বহুল ব্যবহার হয়। ছালের রস সপশিষ নষ্ট করে। তাছাড়া, গলার ক্ষত, অতিসার ও অজীর্ণে ব্যবহার হতে দেখা যায়।
পলাশ গাছের আঠা খয়েরের ন্যায়। এই নির্যাস চূর্ণ স্ত্রীরোগে ও শিশুরোগে ব্যবহৃত
হতে দেখা যায়।
অশ্বত্থ /ধর্মধ্বজ
দীর্ঘজীবী বৃক্ষ বলে নাম হয়েছে অশ্বত্থ। অপরনাম গর্দভাণ্ড। এই গাছ থেকে এক প্রকার বিশেষ গন্ধ বের হয়। গর্দভ শব্দটি তারই দ্যোতক। তাছাড়া মুদ্রার আকারের পত্র থেকে এক জাতীয় মদ্য প্রস্তুত হয়। এই মদ্য অশ্বের প্রিয়। এই সকল কারণেই নাম গর্দভাণ্ড ছায়াতরু হিসেবে রাস্তার ধারে এই গাছ দেখা যায়। এর বিশেষ পরিচয়ের দরকার
হয় না।
অশ্বত্থ গুপ্তবীজী বৃক্ষ। গাছের তলায় ফল পড়ে থাকে। কিন্তু সেই বীজ থেকে চারা হতে দেখা যায় না।
পাখিরা এসব ফল খায়। তাদের উদরের বিশেষ উত্তাপে বীজগুলি অঙ্কুরিত হবার উপযুক্ত
আলে বায়েত ও কারবালার
করা দৃশ্য
தை அாசி
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা
প্রাকৃতি খাড়া গাছটি লম্বায় সত্তর-আশি ফুট পর্যন্ত হতে দেখা যায়। ওপরের দিকট ক্রমশ সরু হতে থাকে। গাছের ব্যাস সাধারণতঃ এক দেড় ফুটের বেশি হয় না। গাছের মাথার দিকে পাতা ও পাতার মূল ডাঁটা এমন ভাবে ছড়ানো থাকে যে দূর
থেকে তাকে গোলাকার দেখায়।
যে ডাঁটিতে পাতা হয়। সেটি গাছের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এটি বারো থেকে খোল ফুট
পর্যন্ত লম্বা হয়। একে বলে নারকেলের বেগড়া।
সরু পাতাগুলি তিন ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতার মাঝের শিরাটিকে বলে নারকেলের
শলা—এ দিয়ে কাঁটার কাঠি তৈরি হয়।
গাছের গায়ে গোলাকার সারিসারি খাঁজ দেখতে পাওয়া যায়। নারকেল বেগুড়া শুকিয়ে পড়ে গেলে গাছের গায়ে ওই দাগটা হয়ে যায়।
নারকেলের আকার সব এক রকম হয় না। ছোট-বড় ফল অনুযায়ী তার ভেতরের জলাধারটি অর্থাৎ খোলটি ছোট-বড় হয়। ফল কাঁচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ বর্ণ, ঝুনা নারকেলের বর্ণ অনেক মলিন হয়ে যায়।
সব নারকেলের খোলে একরকম শাঁস হয় না। অনেক ছোট নারকেলেও শাঁস হয় পুরু। আন্দামানে একজাতীয় বড় আকারের নারকেলে খোলটি যেমন বড় হয়, শাঁসও হয় পুরু। কেরালা অঞ্চলে বিশেষ করে ছোবড়ার জন্যই এক জাতীয় নারকেলের চাষ করা হয়। এগুলো দেখতে বেশ বড় কিন্তু খোলটি হয় ক্ষুদ্র। ছোবড়া সর্বস্য এই নারকেলের ছোবড়া থেকে বিভিন্ন ধরনের অর্থকরী জিনিস তৈরি হয়।
নারকেলের শাঁস স্নিগ্ধ। শীতল মধুর রসসম্পন্ন এবং বলকারক। তবে এই নারকেলের রস অর্থাৎ দুধ অম্ল বা দুধের সঙ্গে যুক্ত হলে তা হয় অত্যন্ত গুরুপাক। কচি নারকেলের জল বলকারক, পিদাহ ও পিপাসায় হিতকর।
ঝুনা নারকেলের শাঁস শুকিয়ে ঘানিতে পেষাই করে তেল তৈরি করা হয়। এই তৈলের সঙ্গে অন্য জিনিস মিশিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক খাদ্য প্রস্তুত হয়।
যায়।
নারকেল গাছে প্রায় সারাবছরই ফুল ও ফল হয়। তবে ঋতুভেদে কম-বেশি হতে দেখা
নারকেলের মালা অর্থাৎ ঝুনো নারকেলের খোলাটিও অবহেলা করার নয়। এটি ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
নারকেল গাছ সমুদ্রোপকূলবর্তী স্থানেই বেশি হতে দেখা যায়। তবে স্থানটি এমন হতে হবে যেখানে সমুদ্রের লোনা হাওয়া পৌঁছায় অথচ মাটির তলার জল লবণাক্ত নয়। এই কারণেই মাদ্রাজ, ওড়িশা, করমণ্ডল, মালাবার উপকূল, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং শ্রীলঙ্কায় প্রচুর পরিমাণে নারকেল জন্মায়।
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, হুগলী, মেদিনীপুর, চব্বিশ পরগনা অঞ্চলে এবং বর্তমান বাংলাদেশেরও প্রায় সর্বত্র নারকেল হয়।
নারকেল একটি বিচিত্র ফল সন্দেহ নেই। এর বাইরের অংশটি শক্ত ও কর্কশ, কিন্তু অভ্যন্তরে রয়েছে সুমধুর পদার্থ। এর ভৈষজ্য গুণ সম্পর্কেও বৈদ্যকগণ উচ্ছ্বসিত।
গাছের বিভিন্ন অংশকে নানা প্রকার রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে সুপক শাঁস শুক্রকারক ও বলকর। তবে বায়ুকর, শ্লেষ্মাকর বলেও বলা হয়েছে। নারকেলের ভৈষজ্যগুণ এখনো সম্পূর্ণ জানা হয়েছে বলে মনে হয় না।
মাঝারি ধ পাতাগুলি
এক একটি পাতাগুলি ম বর্ষাকালে অনেক ছোট জয়ন্তীর একই রকম
প্রতিটি শুঁটির অ পৃথক অনে ফাল্গুন-ৈ ছড়িয়ে পড়ে
জয়ন্তী পা..