সূচনাএই মহামূল্যবান বইটি দুনিয়া-জাহানের সবচাইতে প্রশংসিত ও প্রেমসিক মানুষটির উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক চিঠি, শর্ত, রাষ্ট্রীয় চুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ আদেশ-উপদেশাবলির সংকলন। তিনি ছিলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আইনপ্রণেতা। মানবজাতিকে যিনি দিয়েছিলেন সাম্য, ন্যায়বিচার ও প্রকৃত মর্যাদা। নিজ অনুসারীদের দেখিয়েছিলেন সরল ও সঠিক পথ ।তিনি সর্বাধিক প্রশংসিত। এতটাই প্রশংসিত, তার নিরবচ্ছিন্ন প্রশংসায় দিন পেরিয়ে নিশিরাত নেমে আসতো, এখনো যেমন আসে, চিরকালই নেমে আসবে। পৃথিবীতে পয়গম্বর, নারক, নেতা, বিজয়ী, যোদ্ধা, স্রোতের বেগ পাল্টে দেয়া মানুষজন এসেছিলেন শয়ে শয়ে, হাজারে হাজারে। এমনকি অনেকের নামও পর্যন্ত আমাদের জানা নেই, ভাঙ্গা কটা মানুষ বেঁচে আছেন শুধু ইতিহাসের পাতায়যাই হোক, সুনিশ্চিত সত্যটা এই, পৃথিবীতে যতটা কিংবদন্তি সৃষ্টিকর্ম রচিত হয়েছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ইনসান, রহমাতুল্লিল আলামীন, জগতের নূর রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে, সমস্ত মহামনীষীদের জীবনী যোগ করেও ঠিক ততটা বই কিংবা সৃষ্টিকর্ম রচিত হয়নি পৃথিবীর বুকে! সমস্ত মানুষের মাকে শুধুমাত্র একজন জাদুকরী ব্যক্তিত্বই সমাসীন হয়ে আছেন, যিনি অনন্য এবং একমাত্র, যার জন্য, একটি সেকেন্ডও পেরিয়ে যায় না, যেখানে সারা বিশ্বের হাজার হাজার ইনসানকূল আল্লাহ সুবহানুতা'লার কাছে রাজাকার কিংবা আশীর্বাদ প্রার্থনা করে না। যখনই কোনো মুসলিম প্রিয় নবীর নাম শোনে, সে তার স্মরণে দরুদ (প্রতিষ্ঠাদা) ও দুজা পাঠ করে। পবিত্র কুরআনুল কারীমের ৯৪ তম সূরা ইনশিরাহ-এর চতুর্থ আয়াতে মহামহিম যখন পেয়ারা নবীর উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন, "এবং আমি আপনার স্মরণকে করেছি সমুন্নত তখন থেকেই মক্কার কুরাইশরা ইমানদের উপর শুরু করে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচাইতে নারকীয় দমন-অনির্বান এবং অমানবিক অত্যাচার ! এই আশাতে, যা এই
বখতিয়ারের পয়গামতিনি হৃদয়ের রাজপুত্র। পৃথিবীর অবিসংবাদিত রাষ্ট্র ও সমরনায়ক। বিস্তীর্ণ আরব মরুবালুকায় তিনি যে ঐশী আলো বিকিরণের ঝড় তুলেছিলেন, সে বিকিরণে আজো ছেয়ে আছে সমগ্রে পৃথিবী। সেই আলো তামাম দুনিয়ার মানুষকে আলোকিত করে যাবে আজ, কাল এবং পৃথিবীর শেষ দিনটি পর্যন্ত। এই মহামানব, রহমাতুল্লিল আলামিন সৃষ্টির সেরা মানুষ, হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সা.)-এর মুবারক পয়গামসমগ্রের সংকলনই প্রিয়তমের পরগাম' নামে বই আকারে মলাটবন্ধ হয়েছে। তাবৎ পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর হৃদয়ের মানুষটির স্বভাব, আচার-আচরণ, আন্তরিকতা, আদেশ-নিষেধ, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সৌরভ ছড়িয়ে রয়েছে এতে। ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর হৃদয় উৎসারিত দুর্লভ কিছু হীরে-জহরত । “প্রিয়তমের পয়গাম তাদের জন্য, যারা হৃদয়ের গান শুনতে জানে। হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয় বাঁধতে জানে। ঐশ্বরিক আভিজাত্য নিয়ে বুকে বুক মেলাতে জানে। নিঃস্বার্থভাবে মানুষকে ভালোবাসতে জানে। বিভক্তির কাঁটাতারকে যে মূলোৎপাটন করে ঘোষণা করতে পারে, 'হ্যাঁ, আমি সার্বজনীন, আমিই বৈশ্বিক মানুষ'। ইসলাম সেই সার্বজনীনতা এবং বৈশ্বিকতাকে পুঁজি করেই টর্নেডোর বেগে ছড়িয়ে পড়েছিল অর্ধ-পৃথিবীর নানান রঙের, নানান ঢঙের মানুষের ঘরে। দাসত্ব যেখানে চিরাচরিত অমোঘ নিয়ম, সেখানে সব মানুষের সমান অধিকারের বৈপ্লবিক ইশতেহার পাঠ করেছিল ইসলাম । যে বিপ্লবের দাবানলে মাত্র বিশ বছরেই জ্বলে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল তৎকালীন দুনিয়ার দুই দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী পরাশক্তি— রোমান এবং পারসিক সাসানীয় সাম্রাজ্য। হুড়মুড়িয়ে ধ্বসে পড়েছিল তাদের ত্রাসের রাজত্ব !সেই মহা বিপ্লবের মূল অস্ত্র ছিল হৃদয়। আজো তাই এত এত বৈষম্য, জুলুম, নির্যাতন ও অধিকারহীনতার কালো সময়ে এসেও আমাদের হৃদয়ের কাছে ফেরা উচিত। যে জরের শক্তিতে হৃদয়ের শাহানশাহ্, দোজাহানের বাদশাহ্, I ( ) মানুষের বুকে যুগপৎভাবে সম্মিলন ঘটিয়েছিলেন কলম ও সোয়ারের জৌলুসের। আমরা এখনো সেই জ্ঞান এবং বীরত্বের পানই গাইবো, একসাথে, সম্মিলিত সুরে ।ষকের এই অমিত শক্তিশালী বচনগুলি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি প্রতিনিয়তই টের পেরেছি দ আহ্লাদ সুবহানুতা নার সাহায্য এবং দয়া কাকে বলে! পৃথিবীতে প্রেরিত সমস্ত নবীগণের সুলতান যখন তার পয়গামে বশে বলেন,