2999 টাকার উপরে অর্ডার করলে পাচ্ছেন ডেলিভারি চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি

2999 টাকার উপরে অর্ডার করলে পাচ্ছেন ডেলিভারি চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি

নাহজ আল-বালাঘা

Price:
৳850    ৳ 723.00

পেইজ:   480

ওজন:   1kg


ক্যাটাগরি:   

Charge:
ঢাকা সিটির মধ্যে ডেলিভারি চার্জ 59 টাকা
ঢাকা সিটির বাইরে ডেলিভারি চার্জ 99 টাকা

আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিব ৬০০ খ্রিস্টাব্দের অর্থাৎ ২৩ হিজরি-পূর্ব সনের ১৩ রজব শুক্রবার জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি রাসুলের (স.) চাচা আবি তালিবের পুত্র। রাসুলের (স.) দাদা আবদুল মুত্তালিব মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর শৈশব ও কৈশোরে আবি তালিব তাঁকে অতি যত্নে লালন-পালন করেছিলেন। হযরত খাদিজাকে (রা.) বিয়ে করার পর হতে রাসুলের (স.) আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য এসেছিল। এসময় আরবে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়ার কারণে আবি তালিবের সংসারের অসচ্ছলতার কথা বিবেচনা করে রাসুল (স.) শিশু আলীকে তাঁর সংসারে এনে পরম যত্নে লালন-পালন করতে লাগলেন। এমনিতেই জন্মের পর হতে আলীর প্রতি রাসুলের (স.) অগাধ ভালোবাসা ছিল। এখন নিজের সংসারে এনে তিনি আলীকে নিজের মনমতো করে গড়ে তুলতে লাগলেন। ফলে আলী রাসুলের (স.) আচার, আচরণ ও আখলাক রপ্ত করে এক সুমহান চরিত্রের অধিকারী হয়েছেন। তিনি ছিলেন রেসালত প্রকাশ-পূর্ব সময় হতে রাসুলের (স.) সার্বক্ষণিক সহচর। তাই তিনি দাবি করে বলেছেন- “হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় আমি ও খোদেজা ব্যতীত আর কোন সাহাবা রাসুলকে (স.) দেখেনি।” রেসালত প্রকাশের সাথে সাথেই তিনি রাসুলের বক্তব্যে ইমান এনে তাঁকে আল্লাহ্র রাসুল বলে স্বীকারে করেন। কালক্রমে তিনি একজন মহাবীর হিসেবে শুধুমাত্র তাবুকের যুদ্ধ ব্যতীত রাসুলের (স.) জীবদ্দশায় ইসলামের সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বিরোধী বাহিনীর বীরগণকে পরাভূত করে ইসলামের ঝাণ্ডা সমুন্নত রেখেছিলেন। সাহাবাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচাইতে জ্ঞানী। তাই রাসুর (স.) বলেছিলেন, “আমি জ্ঞানের মহানগরী এবং আলী উহার দরজা।” তিনি আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রের প্রবর্তক এবং ইসলামে সর্বপ্রথম লেখক হিসেবে গণ্য। তাঁর পুস্তকের নাম “কিতাবে আলী” ও “জামেয়া”। এতে তিনি সমগ্র দুনিয়ায় যে সব ঘটনা সংঘটিত হবে তার বিবরণ দিয়েছিলেন (দৈনিক ইনকিলাব, ১২ জুন, ১৯৯৩)।
১১ হিজরি সনে রাসুলের (স.) তিরোধানের পর হযরত আবু বকর (রা.) মুসলিম জাহানের খলিফা মনোনীত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ২৩ হিজরি সনে হযরত ওমর (রা.) খলিফা মনোনীত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ২৩ হিজরি সনে হজরত উসমান (রা.) খলিফা মনোনীত হন। ৩৫ হিজরি সনের ১৮ জিলহজ্জ উসমানকে (রা.) হত্যা করার পর ২১ জিলহজ্জ জনগণের চাপের মুখে আলী ইবনে আবি তালিব খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি ৪ বছর ৯ মাস খেলাফত পরিচালনা করেছিলেন। এসময়ে তিনি কখনো নির্বিঘ্নভাবে খেলাফতের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। প্রথমেই তালহা ও জুবায়রের বিদ্রোহ, তৎপর মুয়াবিয়ার বিদ্রোহ ও খারিজিদের বিদ্রোহের কারণে জামালের যুদ্ধ, সিফফিনের যুদ্ধ ও নাহরাওয়ানের যুদ্ধসহ আরো অনেক যুদ্ধে তাঁকে জাড়িয়ে পড়তে হয়েছিল। তদুপরি তাঁর কঠোর নৈতিক মূল্যবোধের কারণে অনেক সুবিধাবাদী লোক তাঁর বিপক্ষে চলে যায়। এতে তিনি অসুবিধার সম্মুখীন হলেও কুরআন ও সুন্নাহর বিধান সমুন্নত রাখার ব্যাপারে কখনো কোন প্রকার আপোষ করেননি । ফলে ৪০ হিজরি সনের ১৯ রমজান কুফার মসজিদে ফজর সালাতের সময় গুপ্তঘাতকের মারণাঘাতে আহত হয়ে ২১ রমজান ৬০ বছর বয়সে শহীদ হন।

রাসুলের (স.) ‘জ্ঞান নগরীর দ্বার' আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন তত্ত্বজ্ঞানী, দার্শনিক, সুলেখক ও বাগ্মী। আলঙ্কারিক শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ও নৈপুণ্য অসাধারণ। তিনি নবুওয়াতী জ্ঞানভাণ্ডার হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করেন এবং সাহাবাদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী পণ্ডিত ছিলেন এতে কারো দ্বিমত নেই । আরবি কাব্যে ও সাহিত্যে তাঁর অনন্যসাধারণ অবদান ছিল। খেলাফত পরিচালনা কালে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ (খোত্বা) দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকগণকে প্রশাসনিক বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মানুষের অনেক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন। তাঁর এসব বাণী কেউ কেউ লিখে রেখেছিল, কেউ কেউ মনে রেখেছিল, আবার কেউ কেউ তাদের লিখিত পুস্তকে উদ্ধৃত করেছিল। মোটকথা তাঁর অমূল্য বাণীসমূহ মানুষের কাছে ছড়ানো- ছিটানো অবস্থায় ছিল।
আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিবের অনন্যসাধারণ অবদান সম্পর্কে আশ-শরীফ আর-রাজীর পূর্বে কেউ গবেষণা করেছেন বলে জানা যায় না। তাঁর পূর্ণ নাম আস-সাঈদ আবুল হাসান আলী ইবনে হুসাইন আল-রাজী আল-মুসাবী । তিনি ৩৫৯ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি আব্বাসীয় খলিফা বাহাউদ্দোলা বুইয়া-এর যুগ পেয়েছিলেন। তার উপাধি ছিল “নাকিবুল আশরাফ আত-তালেবিন।” তিনি আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিবের ভাষাণসমূহ (খোবা), পত্রাবলী, নির্দেশাবলী ও উক্তিসমূহ সংগ্রহ করে “নাহ্জ আল-বালাঘা” এবং কবিতাসমূহ সংগ্রহ করে “দেওয়ানে আলী” নামক দু'টি গ্রন্থ সঙ্কলন করেন। এ গ্রন্থদ্বয় অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয়। শরীফ রাজী কর্তৃক সঙ্কলিত “নাহজ আল- বালাঘা”-এর বহু টীকা ও ভাষ্যগ্রন্থ রচিত হয়েছে। এসব ভাষ্য গ্রন্থের মধ্যে ইবনে আবিল হাদীদ ও মীছাম আল-বাহারাণীর ভাষ্য গ্রন্থদ্বয় প্রসিদ্ধ লাভ করেছে। “নাহ্জ আল- বালাঘা” গ্রন্থটি উর্দু, ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আল্লামা শরীফ রাজী ৪০০ হিজরি সনে উক্ত গ্রন্থটি সঙ্কলন সমাপ্ত করেন এবং ৪০৬ হিজরি সনের ৫ মহররম তিনি বাগদাদে ইন্তেকাল করেন (দৈনিক ইনকিলাব, ৭ জুলাই, ১৯৯২)। “নাহজ আল-বালাঘা” গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করেছে World Organisation For Islamic Services, Tehran (WOFIS) ইংরেজি অনুবাদ ৩ খণ্ডে সমাপ্ত করা হয়েছে। ইংরেজি অনুবাদ পড়ে আমি এত বেশি আকৃষ্ট হয়েছি যে, হেদায়েতের এ মহান বাণীসমূহ বাংলা ভাষাভাষী ভাই-বোনদের হাতে পৌছানোর জন্য মনোস্থির করে এর বাংলা অনুবাদ করা আরম্ভ করলাম। চাকরি জীবনের ব্যস্ত সময়ের ফাঁকে এ কাজটি ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে প্রায় দু'বছরে সম্পূর্ণ অনুবাদ সম্পন্ন করলাম। এতে রয়েছে ২৩৯টি ভাষণ (খোত্বা), ৭৯টি পত্র ও নির্দেশনামা এবং ৪৮৯টি উক্তি। অতঃপর আমি “নাহজ আল-বালাঘা”-এর আরবি ও ফারসি Version সংগ্রহ করে কতিপয় আরবি জানা ব্যক্তির সাথে অধিকাংশ ভাষণ আরবিতে পড়ে আমার বাংলা অনুবাদ মিলিয়ে তার সঠিকতা নিরূপণ করেছি। এতে প্রায় এক বছর সময় লেগে গেছে। “নাহজ আল-বালাঘা” গ্রন্থটি ইংরেজিতে তিন খণ্ড হলেও আমি বাংলা অনুবাদ এক খণ্ডে প্রকাশ করেছি এবং ভাষণ (খোত্রা), পত্রাবলী ও উক্তিসমূহের জন্য তিনটি অধ্যায় করেছি। আমি গ্রন্থখানার আক্ষরিক অনুবাদ করেছি-একটি বাক্যও বাদ দেইনি; এমনকি প্রচ্ছদও অবিকল রেখেছি প্রায় প্রতিটি ভাষণ ও পত্রের শেষে যে টীকা রয়েছে তা WOFIS-এর টীকা। আমি শুধুমাত্র অনুবাদ করেছি। খেলাফত সংক্রান্ত ভাষণ ও পত্রাবলীর যে সব টীকা রয়েছে তাতে তৎকালীন রাজনৈতিক বিষয় রয়েছে। এ ব্যাখ্যাগুলো শিয়া

Contact Us:
Inside Dhaka:
2-3 working days
Outside Dhaka:
3-5 working days
Cash on Delivery :
Available
Refund Rules:
Within 7 DaysView Policy
Payment: