অগ্নির দ্বারা সৃজিত। কোনো অস্তিত্বের নিজস্ব সত্তা নেই আল্লাহর অস্তিত্ব ছাড়া। কারণ, তিনি একের মধ্যেই একক। ধূমবিহীন অগ্নির মৌলিক কোনো সত্তা যদি না থেকে থাকে তবে উহাও কি একের ভিতর একক? যদি বলি হ্যাঁ, তবে সৃজনের মধ্যেই স্রষ্টা দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে প্রকাশিত ও বিকশিত হয়ে চলেছেন। তার এই প্রকাশ এবং বিকাশের ধারা প্রতিটি সেকেন্ডে যদি কয়েক হাজার কোটি ভাগ করা হয় এবং সেই ভাগে যতটুকু পরমাণুরূপ ক্ষুদ্রতম সময়ে কয়েক হাজার কোটি সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেখিয়ে চলছেন এবং সেই ক্ষণিকতম সময়ে বিশাল রূপটি আর কোনোদিনও দেখান না, তাই তিনি সব সময় নব নব রূপে বিকশিত হয়ে চলেছেন। আর যদি বলি না, ধূম্রবিহীন অগ্নি তাঁর সম্পূর্ণ পৃথক সত্তায় সত্তবান তা হলে ইহা শেরেকেরই নামান্তর। কিন্তু সৃষ্টিতে শেরেক বলতে কিছু নেই, আবার আছেও শুনতে অনেকটা আত্মবিরোধী মনে হয়। আসলে অতি গভীরে প্রবেশ করলে কোনো আত্মবিরোধী ভাবধারার সমাবেশ তো দূরে থাক, সবই একেরই অনেক রূপের মধ্যে তিনি একক রূপে খেলে চলেছেন। মূলতঃ চরম সত্য কথা বলতে গেলে, তিনি ছাড়া আর কিছুই নেই। তাই আমাদেরকে দেখতে এবং মর্মে-মর্মে বুঝতে চেষ্টা করার তাগিদ
দিয়েছেন এই বলে যে বলো, আল্লাহ নিজেই আহাদ।
'আল্লাহ ছাড়া কিছুই নেই' কথাটি মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত বুঝতে পারে না যতক্ষণ মানুষের মনের উপর দুনিয়ার অন্ধকার বিরাজ করে। আল্লাহই যে সর্বময় বিভিন্ন রূপ ও বৈচিত্র্য নিয়ে নতুন নতুন রূপ নিয়ে বিকশিত হচ্ছেন এবং তাঁর এই রূপ যে তাঁরই রূপান্তরিত বৈচিত্র্যপূর্ণ বিকাশ ইহা ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ বুঝতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত তার মনের উপর দুনিয়ার অন্ধকার বিরাজ করবে। আল্লাহ্র এই বহুরূপে প্রকাশিত ও বিকশিত ধারাসমূহকেই বলা হয় কেতাব অথবা কোরান। আল্লাহ যে নিজেই নিজেকে প্রকাশ করেছেন রূপান্তর ও বিবর্তনের (ট্রান্সফরমেশন) দ্বারা সেই প্রকাশভঙ্গিকেই বলা হয় কেতাব অথবা কোরান। সুতরাং যত ঘটনাই ঘটছে এবং ঘটবে ইহা কেতাবের ধারা অনুসারে প্রকাশের পথে এগিয়ে যেতে থাকে। অপ্রকাশিত এবং প্রকাশিত এই দুটোর সমষ্টি হলো আল্লাহ। 'যাহা কেতাবে সুনির্ধারিত করা হয় নি, সৃষ্টির মধ্যে তাহা কখনো প্রকাশিত হয় নি এবং হবে না।' (কোরান)। সুতরাং আমরা এখন বলতে পারি যে, প্রকাশের (সৃষ্টির) মধ্যে এমন কোনো বিষয়বস্তু নেই, ছিল না, অথবা থাকবে না যার অস্তিত্ব কেতাবে মওজুদ না আছে। 'কোরান-এ সব কিছুই আছে' এই প্রচলিত কথাটির প্রকৃত রহস্য এখানেই। এই রহস্য না দুখতে পারলে ইহা মূর্খ লোকের কথা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে অনেকের অন্য হবে না। যখন আমরা কোরান-এর পরিভাষায় কোরান ও ফোনের আসল ট বুঝতে পারবো তখন আর মূর্খ জনের উক্তি
বলতে চাই
ধর্ম বিষয়ে কিছু লিখতে গেলে সাংঘাতিকভাবে সীমাবদ্ধ স্থানে দাঁড়িয়ে লিখতে হয়। অলিম্পিকের ডিস্ক প্রোর মতো বৃত্তের মধ্যেই নড়াচড়া দিয়ে ছুঁড়তে হয়। একটু এদিক ওদিক হলেই ফাউল।
মনের কথা মন খুলে লিখতে চাইবেন আপনি? ধর্মের দেশে ইহা সম্ভব নয়। সত্য জেনেও অনেক সময় চুপ করে থাকতে হয়। আর যদি চুপ না করে কলম চালিয়ে যান তা হলে প্রথম প্রকাশেই বইটিকে বাজেয়াপ্ত ঘোষণার চরম ধমক খাবার পর হুঁশ আসবে। তখনই বুঝতে পারবেন কতটুকু স্থানে দাঁড়িয়ে কত সাবধানে লিখতে হচ্ছে আপনাকে। কত নকলকে আসলের সুন্দর পোশাক একান্ত অনিচ্ছায়, জোর করে যুবতীকে একটা বুড়োর সঙ্গে বিয়ে দেবার মতো, একটা লম্পট স্বামীকে জেনে শুনে সাধু বলতে বাধ্য হবার মতো অনেক ঘটনার অনেক রূপ দিতে হয় এবং বাইরে যাবার কোনো উপায় নেই। এতে যদি কোনো মহাপুরুষ আমাকে ভণ্ড বলে, অথবা ভণ্ডামি করছে বলে, তা হলে চুপ করেই থাকতে হবে। কারণ, সে যুগে বাধা আসতো ব্যক্তিগতভাবে আর এখন আসবে দলগতভাবে। দলগত বাধার বিষপান করে বেঁচে থাকার যাতনা সহ্য
করতে হয়।
গবেষণা সত্যকে নেংটা করে দিতে পারে। আবার গবেষণা সত্যকে পিছিয়ে দেবার পোশাক পরিয়ে দিতে পারে কি না জানি না। তবে গবেষণার কাজটিকে মহানবি এতই উৎসাহিত করেছেন যে, ভেবে অবাক হই। গবেষণার আর একটা নাম জ্ঞান অর্জন করা। গবেষণার আর এক নাম যদি ঠুলি পরা চোখ দু'টো খুলে দিতে পারা বোঝায়, গবেষণা যদি একটি চাপিয়ে দেওয়া মিথ্যার খোলস খুলে দিতে পারা বুঝায়, তাহলে সেই গবেষণার আর এক নাম জ্ঞান। নারীর অধিকার চাইবার গবেষণায় যদি প্রাচীর দাঁড় করাতে চান ধর্মের নামে, তাহলে কি ধর্মটি মিথ্যা বলছে, না যে ধর্মের নামে ফতোয়া মারছে সে মিথ্যা বলছে? মোল্লা দিয়ে মোহাম্মদকে যাচাই যারা করতে চায় তাদের গবেষণার মাল-মসলার ভিত্তিগুলো কি নড়বড়ে না শক্ত - তারও গবেষণা হওয়া উচিত মনে করি। কীভাবে মহানবির নামে মিথ্যা কথার ঝুড়ি বানানো হয়েছে, গবেষণার মাধ্যমেই সুন্দর ধরা পড়ে এবং পড়তে শুরু করেছে। তাই