প্রকাশকের কথাইমামে রাব্বানী শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ ফারকী সেরহিন্দি মোজাদ্দিদে আলফে সানী (রঃ) ছিলেন ১২শ শতাব্দির মহান সংস্কারক। ভারতীয় উপমহাদেশে যখন সম্রাট আকবর কর্তৃক দ্বীন ই ইলাহী নামক একটি ভ্রান্ত ধর্মমতের উদ্ভব ঘটে তখন মর্দে মোজাহিদ মোজাদ্দিদে আলফে সানী (রঃ) এর বিরূদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। সিংহদিল মহাপুরুষ হযরত সেরহিন্দি (রঃ)-এর ভীষণ গর্জন সারা পৃথিবীতে কম্পন শুরু করেছিল। তুলার ন্যায় উড়ে গিয়েছিল সম্রাট আকবরের ভ্রান্ত ধর্মমত। পুনরায় ভারত বর্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দ্বীন ঈ মুহাম্মদীর অমীয় ফল্গুধারা।মহান আল্লাহ তায়ালা প্রতি শতাব্দির প্রারম্ভে একজন মোজাদ্দিদ বা সংস্কারক প্রেরণ করেন গজিয়ে উঠা ভ্রান্ত: ধর্মমতের বিলুপ্তি সাধন এবং দ্বীনের সংস্কারমূলক কাজ সম্পাদন করার জন্য। মোজাদ্দিদে আলফে সানী (রঃ) তাঁদের অন্যতম ছিলেন। হযরত মোজাদ্দিদে আলফে সানী (রঃ) একদিকে যেমন ছিলেন আধ্যাতিক সাধক, অপরদিকে তেমন ছিলেন অকুতোভয় সিপাহসালার। তাঁর নৈতিকতার কাছে ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল তৎকালিন দুনিয়ার প্রবল প্রতাপশালী শাসক সম্রাট আকবর ও জাহাঙ্গীরের ক্ষমতার সুদৃঢ় মসনদ।আধ্যাতিক রাহবার হযরত মোজাদ্দিদে আলফে সানী (রঃ)-এর অন্তর ছিল ইলমে লাদুনীর এক মহাসমুদ্র সারা ভারতবর্ষের ক্ষমতার মসনদ তাঁর পদতলে লুটোপুটি খেয়েছে কিন্তু তিনি একটিবারের জন্যও এর দিকে চোখ তুলে তাকাননি।মহান পথ প্রদর্শক হযরত মোজাদ্দিদে আলফে সানী (রঃ)-এর ক্ষুরধার লিখনি শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে পৃথিবীর মানুষকে হিদায়াতের আলোকমালা বিতরণ করে যাচ্ছে। তাঁর অনন্য সাধারণ সৃষ্টি হলো মাকতুবাত শরীফ। যে কিতাবখানাকে মারিফাতের খনি বললেও অত্যুক্তি হবে না।ইসলামী বই প্রকাশনার জগতে সোলেমানিয়া বুক হাউস একটি অনন্য সাধারণ পুস্তক প্রকাশনি। যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ইসলামের আলো বিতরণের ক্ষেত্রে এই প্রকাশনির যথেষ্ট অবদান রয়েছে। ইসলামী বই প্রকাশের ধারাবাহিকতায় সোলেমানিয়া প্রকাশনি হযরত মোজাদ্দিদে আলফে সানীর অমূল্য গ্রন্থ, মারিফাতের খনি পবিত্র মাকতুবাত শরীফ কিতাবখানি বাংলা ভাষায় প্রকাশ করেছে। বাংলা ভাষাভাষি মানুষ এই অমুল্য গ্রন্থখানি পাঠ করে মারিফাতের খনি থেকে সামান্য মণি-মুক্তা আহরণ করে নিজের জীবন সমৃদ্ধ করে তুললে আমাদের শ্রম স্বার্থক হয়েছে বলে আমরা মনে করবো।যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে, বইটিকে নির্ভুল করে পাঠক সমাজের হাতে তুলে দেয়ার জন্য। তারপরও ত্রুটি- বিচ্যুতি থাকা অস্বাভাবিক নয়। সম্মানিত পাঠকবর্গের চোখে অমার্জনীয় কোন ত্রুটি ধরা পড়লে এবং আমাদের জানালে আমরা পরবর্তী সংকরণে তা সংশোধন করার আপ্রাণ চেষ্টা করবো ইনশায়াল্লাহ। আল্লাহ জামানের শ্রম কবুল করুন আমীন।
মাকতুব নং-১হযরত সাইয়্যিদ আহমদ সিরহীন্দ (রঃ) তাঁহার পীর ও মুর্শিদ হযরত খাজা মুহাম্মদ বাকীবিল্লাহ নকশবন্দী আহরারী (রঃ) এর নিকট লিখিতেছেন । নগণ্য খাদিম আহমদের নিবেদন এই যে, হুযূরের নির্দেশানুযায়ী স্বীয় বিক্ষিপ্ত আভ্যন্তরীণ অবস্থা বর্ণনা করিতেছি। পথ চলাকালে ইসমে আজ্জাহের ইহার তাজাল্লীর সহিত এম- নভাবে মিলিত হইয়াছি যে, প্রত্যেক জিনিষের মাঝে আলাদা আলাদা বিশিষ্ট বা খাছ তাজাল্লীর আবির্ভাব অনুভব করিতেছি। উক্ত তাজাল্লী নারী জাতীর পোষাক পরিচ্ছদে এবং তাহাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গে আলাদাভাবে বিশেষভাবে অনুভব করিতেছি। আমি অনিচ্ছাকৃতভাবে তাহাদের এইরূপ অনুগত হইলাম যে, তাহা বর্ণনা করিবার মত নহে। তাহাদের পোষাকে যেইরূপ আবির্ভাব ছিল যে, তেমন আর কোথাও ছিল বলিয়া আমার মনে হয় না । এমন সৌন্দর্য ও নম্রতা অপর কোন আবির্ভাব হয় নাই। সুতরাং তাহাদের সামনে পানির মতো বিগলিত অবস্থায় চলিয়া যাইতাম । এমন আবির্ভাব পানাহার ও পোষাক পরিচ্ছদে দেখা যাইত । সুস্বাদু ও সুমিষ্ট খাবার- দাবারে যে তাজাল্লী ও সুষমা দেখা যাইত তাহা নিম্ন মানের বা সাধারণ খাবারে দেখিতে পাওয়া যাইত না। মিষ্টি পানি ও সাধারণ পানির মধ্যেও এমন পার্থক্য দেখিতে পাইতাম। অতি সাধারণ খাবারের মধ্যেও কোন না কোন পার্থক্য দেখিতে পাইতাম। এহেন তাজাল্লীর বৈশিষ্টসমূহ চিঠির মাধ্যমে বর্ণনা করা আমার পক্ষে অসম্ভব। হুযূর কিবলার দরবারে উপস্থিত থাকিলে হয়তো বিস্তারিতভাবে খুলিয়া বলিতে পারিতাম । অবশ্য এই সকল আবির্ভাবের মধ্য দিয়াও সে মহান ও সুউচ্চ সঙ্গী মহান আল্লাহ তায়ালার মিল- নাকাঙ্খা মনে পোষণ করিয়া রাখিতাম এবং যথাসম্ভব ইহাদের প্রতি খেয়াল রাখিয়া চলিতাম না। কিন্তু আমি আমার অবস্থার চাপের উপর নিরূপায় ছিলাম । ইহার মাঝে এইটিও আমার ভিতর অনুভব হইতো যে, উল্লেখিত তাজাল্লী আল্লাহ তায়ালার সেই পবিত্রতার সাথে কোনরূপ বিরুদ্ধ ভাব রাখে না । হৃদয় সব সময়ই উক্ত নিসবত বা সম্বন্ধের প্রতি আকৃষ্ট এবং বাহ্যিক বস্তু সমূহের প্রতি কোনই খেয়াল থাকে না । জাহের বা প্রকাশ্য বস্তুগুলি উক্ত পবিত্রতা শূন্য বলিয়া তাহাদেরকে এই তাজাল্লী দেওয়া হইয়াছে। সত্য যে, তাহাতে আমার বাতেন বা অন্তর জগত একেবারেই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় নাই । এবং সমগ্র পরিচিত বস্তু ও যাবতীয় আবির্ভাব হইতে যেন বিমুখ। জাহেরের লক্ষ্য দ্বিত্বের প্রতি আছে বলিয়া সে উপরোক্ত তাজাল্লী পাইবার সৌভাগ্য অর্জন করিয়াছে। কিছু দিন পর উক্ত তাজাল্লী গোপন হইয়া আমার অবস্থা হয়রানী এবং অজ্ঞতায় পরিণত হইলো । আগের তাজাল্লী সমূহের কোন কিছুই যেন আর থাকিল না । অতঃপর এক প্রকার ফানা পরিদৃষ্ট হইলো যেন