আল্লাহ তায়ালার জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি জগত সমূহের মালিক। হাজারও দরূদ ও সালাম জানাই নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে, যিনি খাতামুন নাবীয়্যিন, সায়্যেদুল মুরসালীন, অসংখ্য ও অগণিত মু'জিযার অধিকারী, যাকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে নূর ও জগতসমূহের রহমত বলে ঘোষনা করেছেন।
মানবদেহে নফস রাজত্ব করছে। নফসের কুমন্ত্রণায় মানুষ অন্যায় কাজে লিপ্ত হচ্ছে। নফসের কুপ্রবৃত্তিসমূহ আমাদের মধ্যে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হিংসা, ক্রোধ, অহঙ্কার, পরশ্রীকাতরতা, চোগলখোর, গীবত, দূর্নীতি, অপরের হকু নষ্ট, ঘুষ, লোভ-লালসা, আকঙ্খা, মুনাফেকী, ফিৎনা-ফাসাদ ইত্যাদি কু- অভ্যাসসমূহ আমাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করেছে। এগুলো হতে আমাদের সকলকে হেফাজত থাকতে হবে। কেননা নফসের এই চাহিদাগুলি আমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকলে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা কোনদিনও সম্ভব হবে না। এছাড়া এগুলির কারণে মানুষ মন্দকাজে লিপ্ত হচ্ছে। ফলে সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ উন্নতির জন্য নফসের এই চাহিদাগুলি দূর করতে হবে। এই চাহিদাগুলি দূর করে নফসের বেড়াজাল হতে আমাদের সকলকে বেরিয়ে আসতে হবে। একেই বলে মানব মুক্তি।
আমাদের সমাজে শুধু হকুকুল্লাহ তথা আল্লাহর -হক্বের আলোচনা বেশি শোনা যায়। কিন্তু হক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হক্বের আলোচনা শুনতে পাই না। বাংলাদেশে নামকরা ইসলামী বক্তা যারা আছেন, তাদের ওয়াজ বা বক্তৃতায় বান্দার হক্ব সম্পর্কে আলোচনা শুনতে পাই না। তাবলীগের ভাইদের মুখে, ওহাবী ভাইদের মুখে, মওদূদী ভাইদের মুখে, ইসলামী রাজনীতিবিদদের মুখে, পীর সাহেবদের মুখে বান্দার হকু সম্পর্কে তেমন কোন আলোচনা শুনতে পাই না। যদিও তারা সকলেই দাবী করে তাদের দ্বারাই ইসলাম প্রচার হচ্ছে। আবার অনেকে তো মানুষ হত্যাকে ধর্মের নামে বৈধতা দিয়েছে, যেমন আইএসআইএস। আমি এই বইতে বান্দার হকু সম্পর্কে আলোকপাতকরে গিয়ে তাদের সবাই কি করছে এবং কি করা উচিৎ সেই সম্পর্কে কিছু আলোচনা করেছি। তাদের দৃষ্টিতে গীবত হলেও প্রকৃত পক্ষে তা নয়। কেননা দেশের সব ধরণের মতবাদের লোকদের একসাথে মুখোমুখি আলোচনা করা সম্ভব নয়। তাই তাদের নিকট ক্ষমাপ্রার্থী। আপনারা মনে কষ্ট না নিয়ে বান্দার হক্ব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে চেষ্টা করুন। কারো প্রতি হিংসা না রেখে আল্লাহর ওয়াস্তে বান্দার হক্ব সম্পর্কে সকলকে সচেতন করুন। কেননা বান্দার হক্ব নষ্ট করলে, বান্দা ক্ষমা না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা'য়ালাও ক্ষমা করবেন না। তাই মুক্তির জন্য অন্য কারো হক্ক নষ্ট করা যাবে না। কেননা বান্দার হক্ব নষ্ট করতে নফস সব সময় তাড়না দিয়ে থাকে।
গ্রন্থটিতে নফসের কু-প্রবৃত্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। নফস মিথ্যা বলা, গীবত করা, অহংকার করা ইত্যাদি কাজে প্রেরণা দেয়। মিথ্যা কথা বলা গুনাহ, কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষ মিথ্যা বলা জায়েজ আছে এবং কোন ধরণের গীবত গীবত হিসেবে গণ্য নয়, এ গ্রন্থে তা আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের সমাজে এপ্রিল ফুল নামে যে ধোকা ও প্রতারণা প্রতিবছর পালিত হয়, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে তা হারাম প্রমানিত হয়েছে। এ সমস্ত গর্হিত কাজ করতে নফসে আম্মারা আমাদেরকে তাড়া করে থাকে। তাই নফসে আম্মারার বন্দী হতে আমাদেরকে মুক্ত হতে হবে। নফসে আম্মারাকে হেদায়েত করতে হবে। নফসের বেড়াজাল হতে মুক্তির জন্যে হাক্কানী পীরে কামেলের নিকট বায়আত হতে হবে। তাঁর দেয়া তালিম, জিকির ও ধ্যান করতে হবে। আমাদের সকলকে হালাল উপার্জন ও হালাল খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। তবেই নফসের বেড়াজাল হতে আমরা মুক্তি পেতে পারি। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাওফিক দিন। আমিন!
পরিশেষে গ্রন্থটি সম্পাদনকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। গ্রন্থটি রচনা করতে যে সমস্ত গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি, তা গ্রন্থপঞ্জিতে সন্নিবেশ করেছি। গ্রন্থটি প্রকাশে শব্দগঠন, বানান ইত্যাদি কাজে ভুল থাকা কোন অসম্ভব কিছু নয়। সে ভুলগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে পরামর্শ দেয়ার অনুরোধ রইলো। পরবর্তী সংস্করণে তা সংশোধন করবো ইনশাআল্লাহ। বইটির বিষয়ে আপনাদের মতামত একান্ত কাম্য। ronychisty@yahoo.com এই ঠিকানায় ই-মেইল করলে খুশি হবো।
