সুফিবাদের ইতিহাস লিখছি না, লিখছি সুফিবাদের রহস্য। সুফিবাদের ইতিহাস একটু পরিশ্রম, একটু অধ্যয়ন করলেই লিখা যায়। কিন্তু সুফিবাদের রহস্যটি লিখা চাট্টিখানি কথা নয়। সুফিবাদের রহস্যের প্রায় প্রতিটি বিষয় সম্বন্ধে মোটামুটি একটি ধারণা না থাকলে লিখা যায় না। রহস্যময় বিষয়ের ভেতরে ঢুকতে হলে রহস্যের বিষয়গুলোর উপর মোটামুটি একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হয়। যে লিখকের ধারণা যত স্বচ্ছ হয় ততই রহস্যগুলো ফুটে উঠে। নয়তো অনুমানের ঢিল ছুঁড়ে লিখতে হয় এবং পাঠকদেরকেও অনুমানের দেশে নিয়ে যায়। যদিও সুফিবাদের রহস্য ভাষায় লিখে ফুটিয়ে তোলা যায় না, তবে মোটামুটি একটি ধারণা দেওয়া যায়। এই ধারণাটি দেবার জন্যই আমাদের এই লিখনি। সুফিদের আচার-আচরণে, চলনে-বলনে এবং দর্শনে সার্বজনীন ভাবটি যদি ফুটে না ওঠে, যদি কোনো বিশেষ দল ও গোষ্ঠীর জন্য দর্শনটি দাঁড়িয়ে যায়, তা হলে উহা সুফিবাদ থাকে না। সুফির ধর্মই হল সুফিবাদ এবং প্রধান পরিচয়টি হল সুফি। সংকীর্ণতার অন্ধ গলিতে সুফিরা বাস করতে পারেন না। প্রাচীর আর দেয়াল সুফিদের সার্বজনীন দর্শনটিকে বেঁধে দিতে পারে না। বেঁধে দিতে গেলেও হিতে বিপরীত হয়। দেখা যায়, দেয়াল তথা প্রাচীরটিও সার্বজনীনতার আলোকে আলোকিত হয়ে যায়।
মোরাকাবার ধ্যানসাধনা ছাড়া সুফিবাদের রহস্য বোঝাটা অসম্ভব। নির্জনে গুরুর দেওয়া নির্দেশ মতো মোরাকাবার ধ্যানসাধনাটি করতে হয়। সাধক যখন মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর মোরাকাবার ধ্যানসাধনাটি করে চলো, এই সাধনার পথ দিয়েই ধাপে ধাপে রহস্যলোকের পরিচয় ঘটতে থাকে। এই রহস্যলোকের পরিচয়গুলো সাধকের ধ্যানসাধনার গভীরতার উপর নির্ভর করে। ধ্যানসাধনার গভীরতা যত বেশি, রহস্যলোকের দরজাগুলো ততই খুলতে থাকে। তবে একটি কথা সত্য যে, সুফিবাদে যা কিছু অর্জিত হয় ধ্যানসাধনার মাধ্যমে, উহা নিরেট নগদ। বাকির কারবার সুফিবাদে নাই।
